• বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬, ১৪ মাঘ ১৪৩২
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

বস্তারের সবুজ অরণ্যে জ্বলে ওঠা  লাল স্বপ্ন: কমরেড হিদমা

বস্তারের সবুজ অরণ্যে জ্বলে ওঠা  লাল স্বপ্ন: কমরেড হিদমা

  আন্দোলন প্রতিবেদন  

শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬  |  অনলাইন সংস্করণ

২০২৫ সাল শেষ হতে চলেছে। এই বছরেই আমরা হারিয়েছি আমাদের মহান কমরেড সিপিআই মাওবাদীর কেন্দ্রীয় কমিটির সম্পাদক কমরেড বাসবরাজসহ অগণিত কমরেডকে। নভেম্বর’২৫ এর ১৯ তারিখ এক ভুয়া এনকাউন্টারে আমরা হারিয়েছি বস্তারের ভূমিপুত্র, মাওবাদী আন্দোলনের বিপ্লবী বাহিনী ‘গণমুক্তি গেরিলা বাহিনী’র প্রধান কমরেড মাদভি হিদমাকে। রাষ্ট্রীয় বাহিনী তাঁকে হত্যা করে ঘোষণা করেছে বস্তারের বিপ্লবী আন্দোলন শেষ হতে চলেছে। ঠিক যেমনটা তারা বলেছিল, শ্রীকাকুলম বিদ্রোহের বীর সৈনিকদের হত্যা করে ৫০’র দশকে । কিন্তু সেই ভূমি থেকেই জন্ম নিয়েছিলেন কমরেড বাসবরাজ সহ অসংখ্য কমরেড। ঠিক তেমনই গুণ্ডাধরদের উত্তরসূরি হয়ে বস্তারের কিংবদন্তি কমরেড হিদমা জন্ম গ্রহণ করেছিলেন।  

কমরেড হিদমার জন্ম ছত্তিশগড়ের সুকমা জেলার পুভ্বর্তি নামে এক প্রত্যন্ত গ্রামে, ১৯৭৪ সালের আশপাশে এক দরিদ্র আদিবাসী পরিবারে।

 শৈশব কেটেছে অরণ্যের কোলে; সেখানেই গ্রামের স্কুলে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত তাঁর প্রাথমিক শিক্ষা। অঞ্চলে যখন রাজনৈতিক আন্দোলনের প্রভাব ছড়িয়ে পড়ছিল, তখনই তিনি পার্টির সংস্পর্শে আসেন। ১৯৯৭ সালের ডিসেম্বরে তিনি পূর্ণকালীন কর্মী হিসেবে সংগঠনে যুক্ত হন। কয়েক বছর বিভিন্ন অঞ্চলে দায়িত্ব পালন করতে করতে তাঁর অভিজ্ঞতার পরিধি বিস্তৃত হয়। বাসাগুড় দল, গড়চিরোলি এলাকা, দণ্ডকারণ্য অস্ত্র প্রস্তুত বিভাগ– প্রতিটি পর্বই তাঁকে নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড় করায়। ২০০১ সালে তিনি এরিয়া কমিটির সদস্য হন এবং দক্ষিণ বস্তারে কাজ শুরু করেন। এরপর ধাপে ধাপে তাঁর সাংগঠনিক দায়িত্ব বাড়তে থাকে। কখনও এলডিএস কমান্ডার, কখনও এলএস কমান্ডার, পরে ডিভিশনাল কমিটির সদস্যসহ সংগঠনের বিভিন্ন স্তরে কাজ করে তিনি মাঠের বাস্তবতা ও কাঠামোগত দায়িত্ব দুটির সঙ্গেই পরিচিত হয়ে ওঠেন।

 ২০০৬-২০০৯ সাল পর্যন্ত তিনি কোম্পানি কমান্ডার ও সম্পাদক হিসেবে কাজ করেন। ২০০৯ সালে ব্যাটালিয়ন গঠনের পর তিনি তার কমান্ডার হন এবং পরবর্তীতে ব্যাটালিয়ন কমিটির সম্পাদক নির্বাচিত হন। ২০১১ সালে তিনি দণ্ডকারণ্য স্পেশাল জোনাল কমিটির সদস্য হন। দীর্ঘ সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্বের ভিত্তিতে ২০২০ সালে সেক্রেটারিয়েট সদস্য এবং ২০২৪ সালের আগস্টে স্পেশাল জোনাল কমিটির সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন। হিদমার রাজনৈতিক বিকাশ ঘটেছে মূলত জনগণের মধ্যেই কাজ করার অভিজ্ঞতা থেকে। তিনি জনগণের কাছ থেকে শিখেছেন, সময়ের এবং বিপ্লবী আন্দোলনের প্রয়োজনে নিজেকে রূপান্তরিত করেছেন। আন্দোলনের প্রয়োজনে  মার্ক্সবাদ-লেনিনবাদ-মাওবাদ  অধ্যয়নের মাধ্যমে তিনি রাজনৈতিক ও আদর্শিকভাবে নিজেকে গড়ে তোলেন। বিভিন্ন সময়ে লেখা তাঁর সার্কুলার ও পুস্তিকাগুলি ক্যাডারদের শিক্ষায় ব্যবহৃত হয়েছে। সাংগঠনিক ও সামরিক ক্ষেত্রে তিনি পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। দায়িত্ব পালনকালে সংগঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সম্পদ সংগ্রহের কাজেও তিনি যুক্ত ছিলেন। তাঁর নেতৃত্বে দক্ষিণ সাব-জোনে সংগঠনের প্রভাব বিস্তার লাভ করে এবং স্থানীয় প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে ওঠে। এই দীর্ঘ পথচলায় তিনি সহকর্মী ও সাধারণ জনগণের আস্থা অর্জন করেছিলেন। আন্দোলনের বর্তমান বিপর্যয়কালীন সময়েও দক্ষিণ সাবজোনাল কমিটির অধীন এলাকায় রাষ্ট্রীয় বাহিনীর উপর সক্রিয় হামলা অব্যাহত রেখেছে হিদমার হাতে গড়া কমরেডগণ। যা কমরেড হিদমার শহিদি মৃত্যুর পরেও অব্যাহত রয়েছে।  

দক্ষিণ এশিয়ার বিপ্লবী আন্দোলনের ইতিহাসে কমরেড হিদমা আমাদের সামনে এক উজ্জ্বল সাম্প্রতিক দৃষ্টান্ত, যিনি শত্রুর হাতে গ্রেফতার এবং বর্বর নির্যাতনেও অটল থেকেছেন বিপ্লবী লক্ষ্যের প্রতি। তার শহিদি মৃত্যু সীমান্ত পেরিয়ে আমাদের সামনে হাজির করেছে এমন এক মৃত্যুর দৃষ্টান্ত, যা আমাদের ক্রিওক্রাডং পাহাড়কেও হালকা করে তুলেছে। আর আমাদের সামনে হাজির করেছে এক বিপ্লবী বীরকে, যার পদাঙ্ক অনুসরণ করা গৌরবের।  

কমরেড হিদমা এমন একজন যোদ্ধা, যিনি ভারতের মাওবাদী আন্দোলনের ইতিহাসে সফল অভিযানের নেতৃত্ব দিয়েছেন। জনগণের ক্ষমতার আধার এবং ভবিষ্যৎ বিপ্লবী রাষ্ট্রের ভ্রূণ হিসেবে জনগণের ক্ষমতা কায়েম করবার জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন। কমরেড হিদমা আমাদের শিখিয়েছেন, প্রবল শত্রুর আক্রমণে মৃত্যুর মুখেও, মার্কসবাদ-লেনিনবাদ-মাওবাদের উপর আস্থা রেখে কিভাবে জনগণের মধ্যে আশার সঞ্চার করতে হয়। তিনি আমাদের সামনে এমন এক পথ প্রদর্শক, যিনি শুধু পার্টির নেতৃত্ব হিসেবেই নয়, এর চেয়েও বেশি নিজের ভূমি এবং মানব-সভ্যতাকে রক্ষার লড়াইয়ে শহিদ হয়েছেন। বাংলাদেশের বিপ্লবী জনগণ মহান কমরেড হিদমাকে তাদের লড়াইয়ের পাথেয় হিসেবেই স্মরণ করবে।  

–৩১/১২/২০২৫

বস্তারের সবুজ অরণ্যে জ্বলে ওঠা  লাল স্বপ্ন: কমরেড হিদমা

 আন্দোলন প্রতিবেদন 
শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬  |  অনলাইন সংস্করণ

২০২৫ সাল শেষ হতে চলেছে। এই বছরেই আমরা হারিয়েছি আমাদের মহান কমরেড সিপিআই মাওবাদীর কেন্দ্রীয় কমিটির সম্পাদক কমরেড বাসবরাজসহ অগণিত কমরেডকে। নভেম্বর’২৫ এর ১৯ তারিখ এক ভুয়া এনকাউন্টারে আমরা হারিয়েছি বস্তারের ভূমিপুত্র, মাওবাদী আন্দোলনের বিপ্লবী বাহিনী ‘গণমুক্তি গেরিলা বাহিনী’র প্রধান কমরেড মাদভি হিদমাকে। রাষ্ট্রীয় বাহিনী তাঁকে হত্যা করে ঘোষণা করেছে বস্তারের বিপ্লবী আন্দোলন শেষ হতে চলেছে। ঠিক যেমনটা তারা বলেছিল, শ্রীকাকুলম বিদ্রোহের বীর সৈনিকদের হত্যা করে ৫০’র দশকে । কিন্তু সেই ভূমি থেকেই জন্ম নিয়েছিলেন কমরেড বাসবরাজ সহ অসংখ্য কমরেড। ঠিক তেমনই গুণ্ডাধরদের উত্তরসূরি হয়ে বস্তারের কিংবদন্তি কমরেড হিদমা জন্ম গ্রহণ করেছিলেন।  

কমরেড হিদমার জন্ম ছত্তিশগড়ের সুকমা জেলার পুভ্বর্তি নামে এক প্রত্যন্ত গ্রামে, ১৯৭৪ সালের আশপাশে এক দরিদ্র আদিবাসী পরিবারে।

 শৈশব কেটেছে অরণ্যের কোলে; সেখানেই গ্রামের স্কুলে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত তাঁর প্রাথমিক শিক্ষা। অঞ্চলে যখন রাজনৈতিক আন্দোলনের প্রভাব ছড়িয়ে পড়ছিল, তখনই তিনি পার্টির সংস্পর্শে আসেন। ১৯৯৭ সালের ডিসেম্বরে তিনি পূর্ণকালীন কর্মী হিসেবে সংগঠনে যুক্ত হন। কয়েক বছর বিভিন্ন অঞ্চলে দায়িত্ব পালন করতে করতে তাঁর অভিজ্ঞতার পরিধি বিস্তৃত হয়। বাসাগুড় দল, গড়চিরোলি এলাকা, দণ্ডকারণ্য অস্ত্র প্রস্তুত বিভাগ– প্রতিটি পর্বই তাঁকে নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড় করায়। ২০০১ সালে তিনি এরিয়া কমিটির সদস্য হন এবং দক্ষিণ বস্তারে কাজ শুরু করেন। এরপর ধাপে ধাপে তাঁর সাংগঠনিক দায়িত্ব বাড়তে থাকে। কখনও এলডিএস কমান্ডার, কখনও এলএস কমান্ডার, পরে ডিভিশনাল কমিটির সদস্যসহ সংগঠনের বিভিন্ন স্তরে কাজ করে তিনি মাঠের বাস্তবতা ও কাঠামোগত দায়িত্ব দুটির সঙ্গেই পরিচিত হয়ে ওঠেন।

 ২০০৬-২০০৯ সাল পর্যন্ত তিনি কোম্পানি কমান্ডার ও সম্পাদক হিসেবে কাজ করেন। ২০০৯ সালে ব্যাটালিয়ন গঠনের পর তিনি তার কমান্ডার হন এবং পরবর্তীতে ব্যাটালিয়ন কমিটির সম্পাদক নির্বাচিত হন। ২০১১ সালে তিনি দণ্ডকারণ্য স্পেশাল জোনাল কমিটির সদস্য হন। দীর্ঘ সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্বের ভিত্তিতে ২০২০ সালে সেক্রেটারিয়েট সদস্য এবং ২০২৪ সালের আগস্টে স্পেশাল জোনাল কমিটির সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন। হিদমার রাজনৈতিক বিকাশ ঘটেছে মূলত জনগণের মধ্যেই কাজ করার অভিজ্ঞতা থেকে। তিনি জনগণের কাছ থেকে শিখেছেন, সময়ের এবং বিপ্লবী আন্দোলনের প্রয়োজনে নিজেকে রূপান্তরিত করেছেন। আন্দোলনের প্রয়োজনে  মার্ক্সবাদ-লেনিনবাদ-মাওবাদ  অধ্যয়নের মাধ্যমে তিনি রাজনৈতিক ও আদর্শিকভাবে নিজেকে গড়ে তোলেন। বিভিন্ন সময়ে লেখা তাঁর সার্কুলার ও পুস্তিকাগুলি ক্যাডারদের শিক্ষায় ব্যবহৃত হয়েছে। সাংগঠনিক ও সামরিক ক্ষেত্রে তিনি পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। দায়িত্ব পালনকালে সংগঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সম্পদ সংগ্রহের কাজেও তিনি যুক্ত ছিলেন। তাঁর নেতৃত্বে দক্ষিণ সাব-জোনে সংগঠনের প্রভাব বিস্তার লাভ করে এবং স্থানীয় প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে ওঠে। এই দীর্ঘ পথচলায় তিনি সহকর্মী ও সাধারণ জনগণের আস্থা অর্জন করেছিলেন। আন্দোলনের বর্তমান বিপর্যয়কালীন সময়েও দক্ষিণ সাবজোনাল কমিটির অধীন এলাকায় রাষ্ট্রীয় বাহিনীর উপর সক্রিয় হামলা অব্যাহত রেখেছে হিদমার হাতে গড়া কমরেডগণ। যা কমরেড হিদমার শহিদি মৃত্যুর পরেও অব্যাহত রয়েছে।  

দক্ষিণ এশিয়ার বিপ্লবী আন্দোলনের ইতিহাসে কমরেড হিদমা আমাদের সামনে এক উজ্জ্বল সাম্প্রতিক দৃষ্টান্ত, যিনি শত্রুর হাতে গ্রেফতার এবং বর্বর নির্যাতনেও অটল থেকেছেন বিপ্লবী লক্ষ্যের প্রতি। তার শহিদি মৃত্যু সীমান্ত পেরিয়ে আমাদের সামনে হাজির করেছে এমন এক মৃত্যুর দৃষ্টান্ত, যা আমাদের ক্রিওক্রাডং পাহাড়কেও হালকা করে তুলেছে। আর আমাদের সামনে হাজির করেছে এক বিপ্লবী বীরকে, যার পদাঙ্ক অনুসরণ করা গৌরবের।  

কমরেড হিদমা এমন একজন যোদ্ধা, যিনি ভারতের মাওবাদী আন্দোলনের ইতিহাসে সফল অভিযানের নেতৃত্ব দিয়েছেন। জনগণের ক্ষমতার আধার এবং ভবিষ্যৎ বিপ্লবী রাষ্ট্রের ভ্রূণ হিসেবে জনগণের ক্ষমতা কায়েম করবার জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন। কমরেড হিদমা আমাদের শিখিয়েছেন, প্রবল শত্রুর আক্রমণে মৃত্যুর মুখেও, মার্কসবাদ-লেনিনবাদ-মাওবাদের উপর আস্থা রেখে কিভাবে জনগণের মধ্যে আশার সঞ্চার করতে হয়। তিনি আমাদের সামনে এমন এক পথ প্রদর্শক, যিনি শুধু পার্টির নেতৃত্ব হিসেবেই নয়, এর চেয়েও বেশি নিজের ভূমি এবং মানব-সভ্যতাকে রক্ষার লড়াইয়ে শহিদ হয়েছেন। বাংলাদেশের বিপ্লবী জনগণ মহান কমরেড হিদমাকে তাদের লড়াইয়ের পাথেয় হিসেবেই স্মরণ করবে।  

–৩১/১২/২০২৫

আরও খবর
 
শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র